হোমপেজ বিজ্ঞান ইতিহাসের দীর্ঘতম ৭০০ কিমি লম্বা বজ্রপাত হল ব্রাজিলে

ইতিহাসের দীর্ঘতম ৭০০ কিমি লম্বা বজ্রপাত হল ব্রাজিলে

(ফাইল ছবি)

অভূতপূর্ব এই বজ্রপাতটি যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো থেকে কানাডার টরেন্টো পর্যন্ত দূরত্বের সমান

জাতিসংঘের আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড মিটিয়োরোলজিকাল অর্গানাইজেশন’ (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, তারা এমন একটি বজ্রপাতের ঘটনা রেকর্ড করেছেন, যা দৈর্ঘ্যের হিসাবে স্মরণকালের ইতিহাসে সবচেয়ে লম্বা বজ্রপাত।

২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর ব্রাজিলের আকাশে সৃষ্টি হয়েছিল অতিবিরল এই বজ্রপাতটির। প্রায় ৭০০ কিলোমিটার বা ৪০০ মাইল দৈর্ঘ্যের বজ্রপাতটি বিস্তৃতির হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন শহর থেকে ওয়াশিংটন ডিসি কিংবা ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডন থেকে সুইজারল্যান্ডের ব্যাসেল শহর অথবা যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো থেকে কানাডার টরেন্টো শহর পর্যন্ত দূরত্বের সমান।

এদিকে ডব্লিউএমও-র বিশেষজ্ঞ প্যানেল অন্য আরো একটি বজ্রপাত সনাক্তের কথা জানিয়েছে, যেটি আবার স্থায়ীত্বের দিক থেকে স্থাপন করেছে নতুন রেকর্ড। ২০১৯ সালের ৪ মার্চ এই বজ্রপাতটির সৃষ্টি হয়েছিল আর্জেন্টিনার উত্তরাঞ্চলের আকাশে। দীর্ঘ ১৬.৭৩ সেকেন্ড ধরে এটি স্থায়ী ছিল আর্জেন্টিনার আকাশে।

নতুন উদ্ভাবিত স্যাটেলাইট লাইটনিং ইম্যাজিং টেকনোলজি ব্যবস্থা দিয়ে বজ্রপাতগুলোকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয়েছে।

ব্রাজিলের আকাশে সৃষ্ট দৈর্ঘ্যের দিক থেকে নতুন রেকর্ড গড়া বজ্রপাতটি বিস্তৃতিতে এতটাই বিশাল ছিল যে আগের রেকর্ডের বজ্রপাতটির চেয়ে এটি লম্বায় দ্বিগুণেরও বেশি। ২০০৭ সালের ২০ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমার আকাশে সৃষ্টি হয়েছিল তখনকার দীর্ঘতম বজ্রপাতটির। সেটির দৈর্ঘ্য ছিল ৩২১ কিলোমিটার (১৯৯ মাইল)। অর্থাৎ সর্বশেষ সনাক্ত হওয়া ব্রাজিলের বজ্রপাতটির অর্ধেকের চেয়েও ছোট।

একইভাবে স্থায়ীত্বের দিক থেকে নতুন রেকর্ড গড়া আর্জেন্টিনার বজ্রপাতটিও এর আগের রেকর্ডের দ্বিগুণেরও বেশি সময় ধরে আকাশে থেকেছে। ২০১২ সালের ৩০ আগস্ট দক্ষিণ ফ্রান্সে সৃষ্ট আগের রেকর্ডের বজ্রপাতটি স্থায়ী ছিল ৭.৭৪ সেকেন্ড, যেখানে নতুন রেকর্ডটি ১৬.৭৩ সেকেন্ডের।

বজ্রপাত নিয়ে কাজ করা আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন নয় যে এর চেয়েও বিস্তৃত বা এর চেয়েও বেশি স্থায়ীত্বের বজ্রপাত অতীতে হয়নি। তবে এতদিন সেসব সনাক্তে ভূমি থেকে পরিচালিত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হত, যাতে অনেক বজ্রপাতের সার্বিক তথ্য নির্ভূলভাবে পাওয়া সম্ভব হতনা। বর্তমানে মহাকাশ থেকে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এই সনাক্তকরণের কাজ সম্পন্ন করা হয় বলে অনেক বেশি তথ্য ও উপাত্ত বিজ্ঞানীরা হাতে পান। ফলে কোন এলাকায়, কোন বজ্রপাত, কতটুকু সময়ে ধরে, কতটুকু দূরত্ব জুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে তার সব এখন সূক্ষ্মভাবে জানতে পারছেন আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা।