হোমপেজ প্রযুক্তি এবার থেকে চাঁদেও মিলবে মোবাইলের ফোরজি নেটওয়ার্ক

এবার থেকে চাঁদেও মিলবে মোবাইলের ফোরজি নেটওয়ার্ক

(Image: Reuters)

চাঁদে মানুষ নেই, চাঁদে ঘর নেই, চাঁদে হাওয়া নেই, চাঁদে জল নেই… কিন্তু আছে ফোরজি মোবাইল নেটওয়ার্ক। কৌতুকের মত শোনালেও অচিরেই এমন বাস্তবতারই সাক্ষী হতে যাচ্ছে পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহটি।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারক সংস্থা নোকিয়ার সাথে মিলে চাঁদে স্থাপন করতে যাচ্ছে মোবাইলের দ্রুতগতির ফোরজি নেটওয়ার্ক।

নোকিয়া জানাচ্ছে, তাদের সংস্থার বেল ল্যাবস বিভাগ এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এই প্রকল্পের অধীনে চাঁদে অবতরণ করতে যাওয়া একটি ল্যান্ডারের মাধ্যমে স্থাপন করা হবে ফোরজি যোগাযোগ ব্যবস্থা। ২০২২ সালের শেষ নাগাদ এই মেগা প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে নোকিয়া।

চাঁদের মাটিতে মানুষের দীর্ঘমেয়াদী অবস্থানকে সহজতর করতে নাসা একটি ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এটি সার্বিকভাবে শেষ করতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে তাদের। মোট ১৪টি সংস্থাকে এই মহাপ্রকল্পে যুক্ত করেছে নাসা। চাঁদে নিরবিচ্ছিন্ন ও দ্রুতগতির টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি স্থাপনও এই মহাপরিকল্পনারই একটি অংশ, যার দায়িত্ব পেয়েছে নোকিয়া। এর বাইরে জ্বালানি সঞ্চালন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, চাঁদের পৃষ্ঠে নির্দিষ্ট স্থানে ভূমি সংস্কার করা, মহাকাশযান থেকে পাঠানো ল্যান্ডারের নিরাপদ ও মসৃণ অবতরণের ব্যবস্থা করার মত কাজগুলো অন্যান্য সংস্থাগুলোকে দেওয়া হয়েছে। এসব কাজের বিনিময়ে নাসা এই ১৪টি সংস্থাকে সব মিলিয়ে দেবে ৩৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

গত সপ্তাহে এই মেগা প্রকল্পের ব্যাপারে নাসার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর এবার নোকিয়া তুলে ধরল এতে তাদের অংশগ্রহণের বিস্তারিত। জানানো হয়েছে, চাঁদে ফোরজি নেটওয়ার্ক স্থাপনের বিনিময়ে নাসার কাছ থেকে নোকিয়া পাবে ১৪.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

নোকিয়া জানিয়েছে, তারা তাদের ফোরজি নেটওয়ার্ক চাঁদের বুকে স্থায়ীভাবেই স্থাপন করে আসবে যাতে ভবিষ্যৎে সেখানে যাওয়া সকল মহাকাশচারীরাই সেটি ব্যবহার করে তাদের যোগাযোগের প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারে। এসব কাজের মধ্যে রয়েছে রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে রোভারকে (চাকাযুক্ত যে যানটি ঘুরে ঘুরে তথ্য ও নমুনা সংগ্রহ করে) নিয়ন্ত্রণ করা, তাৎক্ষণিক নেভিগেশন সুবিধা পাওয়া, চাঁদ থেকে পৃথিবীতে উচ্চমানের ভিডিও সম্প্রচার করা প্রভৃতি।

ফোরজি প্রযুক্তি স্থাপনের জন্য চাঁদে একটি বেস স্টেশনও স্থাপন করবে নোকিয়া। সেখানে যুক্ত করা হবে অত্যাধুনিক অ্যান্টেনা, সর্বশেষ হালনাগাদ সফটওয়্যারসহ প্রয়োজনীয় সকল প্রযুক্তিই। এগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে এবং এগুলোকে চাঁদের পৃষ্ঠে এমনভাবে স্থাপন করা হবে যাতে বৈরী আবহাওয়াতেও এগুলো অক্ষত এবং কার্যকর থাকতে পারে।

চাঁদে অবতরণের ল্যান্ডারটি নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘ইনটুইটিভ মেশিনজ’। নোকিয়া চাঁদে ফোরজি প্রযুক্তি কার্যকরের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বহন ও স্থাপনের ব্যাপারে তাদের সাথে যৌথভাবে কাজ করছে।

এদিকে চাঁদের মাটিতে চালু হতে যাওয়া ফোরজি প্রযুক্তিকে ভবিষ্যৎে ধাপে ধাপে ফাইভজি-তে উন্নীত করা হবে বলে জানিয়েছে নোকিয়া।