Home লাইফস্টাইল জেনে নিন লিফট ব্যবহারের কিছু সাধারণ নিয়ম ও নির্দেশনা

জেনে নিন লিফট ব্যবহারের কিছু সাধারণ নিয়ম ও নির্দেশনা

বাণিজ্যিক ভবন হোক কিংবা আবাসিক… অফিস বিল্ডিং হোক বা শপিং মল… কোন জিনিসটি সব ধরনের ভবনেই চোখে পড়ে? উত্তর হল লিফট। জীবনে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছতে গেলে কি করা প্রয়োজন সেই প্রশ্নে অনেক উত্তরই পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু সুউচ্চ ভবনের চূড়ায় উঠতে চাইলে কি প্রয়োজন, তার উত্তরও একই, লিফট।

আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে বহুতল ভবনের এক ফ্লোর থেকে আরেক ফ্লোরে পৌঁছানোর জন্য আমরা অনেকেই কম-বেশি লিফট ব্যবহার করে থাকি। লিফটের এই সফর খুব অল্প সময়ের জন্য হলেও এই সময়টুকুর জন্যও আমাদের মেনে চলা উচিৎ কিছু সাধারণ নিয়ম ও সৌজন্য। আসুন জেনে নেওয়া যাক কী সেগুলো।

দিনের ব্যস্ততম সময়ে একসাথে অনেকের লিফট ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে। এরকম অবস্থায় লিফটে ওঠার জন্য সবাই লাইন ধরে দাঁড়ান। আপনি শেষে পৌঁছালে লাইনের একেবারে শেষে গিয়ে দাঁড়ান, অন্যদের সরিয়ে নিজে আগে ওঠার চেষ্টা করবেননা।

লিফটে ওঠার পর আপনি যদি লিফটের ভেতরে থাকেন এবং আরেকজনকে লিফটের দিকে আসতে দেখেন, আপনার দায়িত্ব তার জন্য দরজা খোলার বাটনটি চেপে ধরা। আর আপনি যদি তার জায়গায় থাকেন এবং তিনি আপনার জন্য এই উপকারটি করেন, ছোট্ট করে একটি ধন্যবাদ জানাতে ভূলবেননা।

লিফটের বাটনগুলো ফ্লোরের ক্রম অনুযায়ী সাজানো থাকে। সাধারণভাবে নিচেরতলাকে গ্রাউন্ড ফ্লোর এবং দ্বিতীয়তলাকে ফার্স্ট ফ্লোর ধরে লিফটের বাটন সাজানো হয়। তবে কোন কোন ভবনে নিচতলা থেকেই শুরু হয় ফার্স্ট ফ্লোর। তাই নতুন কোন ভবনের লিফটে ওঠার সময় পারলে লিফটের বাটন বিন্যাসটি নিশ্চিত হয়ে নিন, না হলে পড়তে হতে পারে বিব্রতকর অবস্থায়।

লিফটে যথাসম্ভব নীরব থাকার চেষ্টা করুন। যেহেতু ভেতরের পরিসরটি ছোট এবং আবদ্ধ, তাই আস্তে কথা বললেও অন্যদের কানে তা জোরে শোনাতে পারে। লিফটের ভেতরে পরিচিত কারো সাথে দেখা হয়ে গেলে শুধু সম্ভাষণটুকু করে বাকি কথা বাইরে আসা পর্যন্ত জমিয়ে রাখুন।

লিফটের ভেতরে মোবাইল নেটওয়ার্ক সহজে পাওয়া যায়না। অনেকেই নেটওয়ার্ক না পেয়ে চিৎকার করে কথা বলতে থাকেন, যেটি যারপরনাই অভদ্রতা। লিফটের ভেতর কোন কল রিসিভ না করাই ভাল। একান্তই করতে হলে বলুন, ‘আমি লিফটে আছি, একটু পরে কলব্যাক করছি।’

২-৩ তলা ওপরে ওঠার জন্য লিফট ব্যবহার না করাই ভাল। সিড়ি ব্যবহার করুন, লিফটের ওপরও চাপ কমবে, আপনারও হালকা ব্যায়াম হবে। তবে পরামর্শটি প্রবীণ, শারীরিক প্রতিবন্ধী বা ভারী ওজন বহনকারীদের জন্য একেবারেই নয়।

প্রত্যেকটি লিফটেরই একটি নির্দিষ্ট পরিমান ভার বহনের ক্ষমতা থাকে। এটি অতিক্রম করে গেলে লিফট থেমে থাকবে। সেরকমটি হলে সবার শেষে ওঠা ব্যক্তিটিকে নেমে দাঁড়িয়ে পরের লিফটে আসতে অনুরোধ করুন।

আপনার সাথে যদি মালামাল থাকে, সেগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখবেননা। গুছিয়ে এক জায়গায় এনে রাখুন, যাতে আরেকজন দাড়ানোর সুযোগ পায়।

লিফটের ভেতরে যেকারো, যেকোন সময় হাঁচি-কাশি আসতেই পারে। সেরকমটি হলে রুমাল ব্যবহার করুন, না থাকলে অন্তত হাত। নাহলে সবার সামনে ভদ্রতাহীন ব্যক্তিতে পরিণত হতে পারেন।

লিফট থেকে নামার সময় তাড়াহুড়ো করবেননা। এক এক করে নামুন। সামনের ব্যক্তিটিকে অতিক্রম না করে তাকে অনুসরণ করুন।

দূর্যোগের সময়

লিফট একটি যন্ত্র। আর পাঁচটি বৈদ্যুতিক যন্ত্রের মত এটিতেও যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিতে পারে। চলন্ত অবস্থায় লিফট হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে আতংকিত হবেননা। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন, লিফটের ‘ইমার্জেন্সি লাইট’ জ্বলে উঠে ভেতরের অন্ধকার দূর করে দেবে। এরপর লিফটি ধীরে ধীরে নিকটবর্তী ফ্লোর বরাবর গিয়ে থামবে। এবারে আপনি হাত দিয়ে লিফটের দরজাটি টেনে খুলে ফেলুন এবং বেরিয়ে আসুন ধীরে ধীরে। নামার সময় শুধু খেয়াল রাখবেন আপনি পা রাখছেন মাটিতেই, শূন্যে না।

ভুমিকম্প বা অগ্নিকান্ডের সময় একদমই লিফট ব্যবহার করবেননা। কারণ চারিদিক আবদ্ধ লিফটে কেউ আটকা পড়লে, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে তার নাগাল পাওয়া উদ্ধারকারীদের জন্য দূরহ হয়ে পড়তে পারে।

কোন কারণে লিফটের ছাদ ভেঙ্গে গেলে বা দড়ি ছিঁড়ে গেলে এটি খুব দ্রুত নীচের দিকে নামতে থাকে। তবে আজকাল প্রায় সব লিফটেই ‘স্পিড লিমিটার ডিভাইস’ সংযুক্ত থকে। লিফটের চলার গতি অস্বাভাবিক বেড়ে গেলেই এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে লিফটকে ধীরে ধীরে থামিয়ে দেয়।