Home প্রযুক্তি ই-সিগারেট নিয়ে জেনে রাখুন সাম্প্রতিক পাঁচটি তথ্য

ই-সিগারেট নিয়ে জেনে রাখুন সাম্প্রতিক পাঁচটি তথ্য

ই-সিগারেট পান করা, সাধারণভাবে যা ভ্যাপিং নামে পরিচিত, সম্প্রতি সারা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। থাইল্যান্ড, সিয়াচেল ও ব্রাজিলের মত কয়েকটি দেশ অবশ্য এটির ওপর কিছু বিধিনিষেধ জারি করে রেখেছে। আসুন আজ জেনে নেওয়া যাক ই-সিগারেট সম্পর্কে কিছু উল্লেখযোগ্য তথ্য।

১.  ই-সিগারেটের ব্যবহার বাড়ছে ক্রমাগত

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক জরিপ অনুযায়ী, সাধারণ সিগারেট গ্রহণকারীর সংখ্যা সারা পৃথিবীতে দিন দিন কমছে। ২০০০ সালে যেখানে এধরনের ধূমপায়ীর সংখ্যা ছিল ১.১৪ বিলিয়ন, তা এখন কমে দাঁড়িয়েছে ১.১ বিলিয়নে।

তবে ই-সিগারেট গ্রহণকারীর বেলায় ঘটনাটি উল্টো। ২০১১ সালে যেখানে ই-সিগারেট সেবনকারীর সংখ্যা ছিল ৭ মিলিয়ন, ২০১৬ সাল নাগাদ তা বেড়ে হয়েছে ৩৫ মিলিয়ন। বাজার গবেষণা সংস্থা ‘ইউরোমনিটর’ জানাচ্ছে, ২০২১ সালের মধ্যে এই সংখ্যা পৌঁছবে ৫৫ মিলিয়নে।

২.  বাড়ছে বাজারও

বিশ্বব্যাপী ই-সিগারেটের বর্তমান বাজারের আকার ২২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা মাত্র পাঁচ বছর আগেও ছিল ৪.২ বিলিয়ন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং জাপান মূলত এই বাজারের মূল অংশীদার। ২০১৬ সালে এই তিন দেশ মিলে ই-সিগারেটের পেছনে মোট ব্যয় করেছে ১৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সুইডেন, ইতালি, নরওয়ে আর জার্মানির মত ইউরোপীয় দেশগুলোও ভ্যাপিং পণ্য ক্রেতার তালিকা‍য় শীর্ষ দশে রয়েছে।

৩.  উন্মুক্ত ধরনের পণ্যগুলো বেশি জনপ্রিয়

বাজারে দুই ধরনের ই-সিগারেট পাওয়া যায়। উন্মুক্ত ও আবদ্ধ। এগুলো সাধারণভাবে ওপেন ট্যাংক ও ক্লোজড ট্যাংক ই-সিগারেট নামেও পরিচিত। উন্মুক্ত ধরনের ই-সিগারেটে ধূমপানের জন্য ব্যবহৃত তরল পরিবর্তন করা যায়, এমনকি মাউথপিসও। অন্যদিকে আবদ্ধ ধরনের ই-সিগারেটে রেডিমেড রিফিল ব্যবহার করা হয়। রিফিলগুলো ভেপিং পণ্যের ব্যাটারির সাথে সংযুক্ত থাকে।

২০১১ সাল থেকে ভেপিং বার এবং মানুষের ব্যক্তিগত সংগ্রহে আবদ্ধ ধরনের ই-সিগারেটের পরিবর্তে উন্মুক্ত ধরনের ই-সিগারেট জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। চলতি বছরের এক জরিপে জানা যায়, এই বছর উন্মুক্ত ধরনের ভেপিং পণ্য ক্রয়ে বিশ্বব্যাপী ৮.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করা হয়েছে। এটি আবদ্ধ ধরনের ই-সিগারেটের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।

৪.  অধিকাংশ ই-সিগারেট কেনা হয়েছে দোকান থেকে সশরীরে

‘আর্নেস্ট অ্যান্ড ইয়ং’-র পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ভেপিং পণ্যের বেশিরভাগ ক্রেতাই অনলাইনে কেনার চেয়ে সরাসরি দোকান থেকে এই পণ্যগুলো কিনতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, পোল্যান্ড, ইতালি, রাশিয়া আর দক্ষিণ কোরিয়ার ক্রেতাদের ৩৫ শতাংশই সরাসরি ভেপিং পণ্যের স্টোর থেকে পণ্যগুলো কিনেছেন। ৩০০০ ক্রেতার ওপর করা জরিপে দেখা যায়, মাত্র ২১ শতাংশ ক্রেতা পণ্যগুলো কিনেছেন অনলাইন থেকে।

৫.  ব্যবহারকারীরা কেন এটি পছন্দ করছেন?

‘আর্নেস্ট অ্যান্ড ইয়ং’-র জরিপে অংশগ্রহণকারী ক্রেতাদের সিংহভাগই ই-সিগারেট কেনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, সাধারণ সিগারেটের চেয়ে এগুলো কম ক্ষতিকর হবার বিষয়টি। ৪৯ শতাংশ মন্তব্য করেছেন, তারা ধূমপান একেবারেই ছেড়ে দেওয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে সাধারণ সিগারেটের বদলে ই-সিগারেট গ্রহণ করা শুরু করেছেন।

ব্রিটেনের গণস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি ই-সিগারেটের ব্যাপারে কিছু সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছে।

  • স্বল্পমেয়াদে ই-সিগারেট বিপদহীন হলেও এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি।
  • ভেপিং-এ ব্যবহৃত তরলের নিকোটিন বেশ নেশাদায়ক।
  • রিফিল পরিবর্তনের সময় তরল অসাবধানতাবশত হাতের ওপর পড়লে তা থেকে ত্বকে বিষক্রিয়া হতে পারে।
  • বৈচিত্র্য আনার জন্য রিফিলে বিভিন্ন ধরনের তরল ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে কিছু আছে দাহ্য প্রকৃতির। অসাবধানতাবশত এগুলো থেকে ছোটখাট দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।