হোমপেজ লাইফস্টাইল দ্বিতীয় সন্তান নেওয়ার আগে ভাববার চারটি বিষয়

দ্বিতীয় সন্তান নেওয়ার আগে ভাববার চারটি বিষয়

যেকোন নারীর জীবনে পূর্ণতা আসে সন্তানের আগমনে। শিশুর হাসি, কান্না, দুষ্টমিতে ভরে ওঠে তার সংসারের শূন্যস্থানটুকুও।

সমাজে দৃষ্টিভঙ্গি ও বাস্তবতা ভেদে পৃথিবীতে কোনো মা সন্তুষ্ট থাকেন একটি সন্তানে, কারো কাম্য দু’টি, কেউবা হতে চান অনেক শিশুর অভিভাবক।

যেসব নারী একাধিক সন্তানের মা হন, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় প্রথম সন্তানের জন্মের আগে যতটা পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি তারা নেন, পরের সন্তানের বেলায় তা ততটা থাকেনা। ইতিমধ্যে একটি সন্তান জন্ম দেওয়ার অভিজ্ঞতাকেই যথেষ্ঠ মনে করেন তারা।

তবে বিষয়টি অত সরল নয়, বরং চ্যালেঞ্জের। একটি সন্তান থাকা অবস্থায় আরেকটি সন্তানের জন্ম হওয়া সেই মায়ের শারীরিক, মানসিক, পেশাগত জীবনে প্রভাব ফেলে। প্রভাব পড়ে প্রথম সন্তানটির ওপরও, যাকে তার ওপর বাবা-মায়ের এতদিনকার মনোযোগের ভাগ দিতে হবে আরেকজনকেও।

আসুন জেনে নেই গুরুত্বপূর্ণ চারটি প্রশ্ন, যার উত্তরের ওপরেই নির্ভর করছে মা হিসেবে আপনি আপনার দ্বিতীয় সন্তানের আগমনের জন্য সত্যিই প্রস্তুত কিনা।

১. আপনি কি শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত?

আপনার এরই মধ্যে একটি সন্তান রয়েছে যাকে এতদিন আপনি আপনার সবটুকু সময় ও মনোযোগ দিয়ে এসেছেন। নতুন সন্তানের আগমনে সেগুলো আপনাকে দু’সন্তানের মধ্যেই ভাগ করে দিতে হবে। সেটি করতে গিয়ে দুজনের কেউই যাতে আপনার যত্ন থেকে বঞ্চিত না হয়ে পড়ে তা আপনাকে আগে থেকে নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া আগের সন্তানের জন্মের কারণে আপনাকে শারীরিক অনেক পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। পরের সন্তানের বেলায়ও একই রকম কষ্টকর প্রসব প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে আপনাকে। সেটার জন্য আপনার শরীর প্রস্তুত কিনা তা ভাল করে ভেবে দেখবেন।

২. আপনার ক্যারিয়ার নিয়ে প্রস্তুতি সেরে রেখেছেন তো?

আপনি যদি একজন কর্মজীবি নারী হন, তাহলে মাতৃত্ব আপনার পেশাগত জীবনে সাময়িক প্রভাব ফেলবেই। প্রথম সন্তানের মত দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের সময়ও আপনাকে কাজ থেকে সাময়িক বিরতি নিতে হবে অথবা অফিসের কাজ ঘরে বসে করার সুযোগ পেতে হবে। এছাড়া দু’টি সন্তানকে দেখভাল ও পেশাগত কাজ, দু’টোতে সমন্বয় করে চলার পরিকল্পনা আগে থেকেই নিয়ে রাখলে ভবিষ্যৎে যেকোন অনাকাঙ্খিত সমস্যা এড়িয়ে যেতে পারবেন। এই পরিকল্পনা তৈরিতে পরিবার, বন্ধুসহ কাছের মানুষদের সাহায্য নিতে পারেন।

৩. বাড়তি আর্থিক চাপ সামলানোর প্রস্তুতি আছে তো?

পরিবারের আকার যত বাড়বে, ভরণপোষণের খরচও ততই বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। অনেক পরিবারে শুধু স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানেরাই থাকেন। কোন পরিবারে বাবা-মা কিংবা অন্য স্বজনরাও অন্তর্ভূক্ত থাকেন। আবার একেক পরিবারের আয়ের পরিমানও একেক রকম। আর সংসারে বড়দের তুলনায় ছোটদের পেছনে ব্যয় কিন্তু কোন অংশে কম হয়না। শিশুদের পড়াশোনা, খাবার, জামাকাপড়ের খরচ মেটাতে একটি পরিবারকে যথেষ্ঠই ব্যয় করতে হয়। পরিবারে আরেকটি সন্তানের আসা মানে সেই ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়া। এই বাড়তি খরচ নির্বাহের মত আর্থিক সামর্থ্য আপনার পরিবারের রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হয়ে সিদ্ধান্ত নিন দ্বিতীয় সন্তান নেওয়ার ব্যাপারে।

৪. প্রথম সন্তানটিকে বুঝিয়ে বলেছেন তো নতুন পরিস্থিতির ব্যাপারে?

যেমনটি আগেই বলেছি, প্রথম যে সন্তানটি এতদিন আপনার আদর, ভালোবাসা, মনোযোগের সবটুকু পেয়ে এসেছে, নতুন সন্তানের আগমনের কারণে তাতে ভাগ বসলে সেটি তার মনোজগৎে প্রভাব ফেলতে পারে। সে হঠাৎ করে নিজেকে অবহেলিত ভাবতে শুরু করতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রধান দায়িত্ব মায়ের। দ্বিতীয়বার মা হওয়ার আগে আপনার প্রথম সন্তানটিকে ভালোভাবে বুঝিয়ে বলুন এ ব্যাপারে, যাতে সে তার অনাগত ভাই বা বোনটিকে আনন্দের সাথে গ্রহণ করতে পারে নিজের জীবনে।