Home ইতিহাস যেদিন আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়েছিলেন অব্রাহাম লিংকন

যেদিন আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়েছিলেন অব্রাহাম লিংকন

অব্রাহাম লিংকন ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৬তম প্রেসিডেন্ট। অনেক জরিপেই দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট হিসেবেন উঠে এসেছে তার নাম। ১৮৬৫ সালের ১৪ এপ্রিল এক মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের শিকার হয়ে নিহত হন প্রেসিডেন্ট লিংকন। ওয়াশিংটনের ফোর্ড থিয়েটারে জন উইকিস বুথ নামে এক কট্টর ফেডারেশনপন্থী যুবকের হাতে মারা যান তিনি।

অব্রাহাম লিংকন যেখানে ছিলেন বর্ণবাদ প্রথা বিলোপের অন্যতম প্রবক্তা এবং বিভক্ত কনফেডারেশনের পরিবর্তে ঐক্যবদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের ধারণায় বিশ্বাসী, সেখানে তার হত্যাকারী জন উইকিস বুথ ছিলেন সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে। তিনি পরিকল্পনা করেন রিচমন্ড থেকে প্রেসিডেন্ট লিংকনকে অপহরণ করবেন এবং তার মুক্তির বিনিময়ে কনফেডারেশনপন্থী কয়েক হাজার বন্দীকে ছাড়িয়ে আনবেন।

কিন্তু তার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই রিচমন্ড চলে আসে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। ক্ষুদ্ধ বুথ সিদ্ধান্ত নেন আরও ভয়ংকর কিছু করার। তিনি পরিকল্পনা আঁটেন প্রেসিডেন্ট লিংকন, ভাইস-প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জনসন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম সেওয়ার্ডকে নিজের হাতে খুন করার।

এই পিস্তলটি দিয়েই প্রেসিডেন্ট লিংকনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল সেদিন

১৮৬৫ সালের ১৪ এপ্রিল। প্রেসিডেন্ট লিংকন সেদিন ছিলেন বেশ ফুরফুরে মেজাজে। একের পর এক রাজ্য চলে আসছে সরকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে, আত্মসমর্পণ করছে বিদ্রোহীরা। ভাল সময়কে আরও উপভোগ করার জন্য তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন স্ত্রী ম্যারি টড লিংকনকে নিয়ে নাটক দেখতে যাবেন ফোর্ড থিয়েটারে।

প্রেসিডেন্ট লিংকনের শুভাকাঙ্খীরা তাকে অন্তত গৃহযুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিতেন। অন্য সময় তা মেনে চললেও সেদিন শোনেননি লিংকন। স্ত্রীকে নিয়ে পৌঁছে যান ফোর্ড থিয়েটারে। উপভোগ করতে থাকেন কমেডি নাটক ‘আওয়ার আমেরিকান কাজিন’।

রাত ১০ টা। থিয়েটারে ঢুকে প্রেসিডেনশিয়াল বক্স পর্যন্ত পৌঁছে যান জন উইকিলস বুথ। প্রেসিডেনশিয়াল বক্সের প্রহরী কিছু সময়ের জন্য বাইরে গিয়েছিলেন। ফলে একপ্রকার বিনা বাধায় ভেতরে ঢুকে যান তিনি। সময় নষ্ট না নিয়ে প্রেসিডেন্ট লিংকনের মাথায় পিস্তল তাক করে ট্রিগার চেপে ধরেন বুথ। একটি মাত্র বুলেট প্রেসিডেন্টের মাথা দিয়ে ঢুকে চোখের নিচ দিয়ে বেরিয়ে যায়।

বুলেটের শব্দ আর আর্ত চিৎকারে ছুটে আসে সবাই। আহত লিংকনকে নিয়ে যাওয়া হয় কাছের একটি বাড়িতে। ডাক্তার এসে পরীক্ষা করেন। ম্যারি টড লিংকন স্বামীর হাত ধরে পাশে বসে থাকেন। শুভাকাঙ্খীরা প্রার্থনা করতে থাকেন প্রেসিডেন্টের দ্রুত আরোগ্য কামনায়। কিন্তু ডাক্তারের চেষ্টা, স্বজনদের প্রার্থনা সবকিছুকে ব্যর্থ করে পরদিন সকাল ৭ টা ২২ মিনিটে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন প্রেসিডেন্ট অব্রাহাম লিংকন, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ক।