Home লাইফস্টাইল ব্যায়ামের শুরুতে হওয়া পেশীর ব্যাথা নিরাময়ে কি করবেন?

ব্যায়ামের শুরুতে হওয়া পেশীর ব্যাথা নিরাময়ে কি করবেন?

সব আলস্য ঝেড়ে অবশেষে নাম লেখালেন জিমে। পরিচিত হলেন জীবনের প্রথম ফিটনেস ট্রেইনারের সাথে। প্রথম দিনই প্রতিজ্ঞা করলেন শরীরের মানচিত্র পাল্টে ফেলার। শুরুও করলেন ব্যাপক উৎসাহে। কিন্তু ক’দিনেই হয়ত ভাটা পড়ে গেল আপনার এই মহাউদ্দামে। কারণ শুধু একটিই, পেশীর ব্যাথা।

তবে শুধু আপনিই নন, যারা অল্প বয়স থেকে শরীরচর্চার সাথে সম্পৃক্ত নন, হঠাৎ শুরুর পর পেশীর ব্যাথায় কাবু হয়ে পড়াটা তাদের জন্য খুব স্বাভাবিক ঘটনা। শরীরের এক বা একাধিক অঙ্গে এরকম ব্যাথা শরীরচর্চার শুরুর দিকে হতেই পারে। ভয় পাওয়ার কিছু নেই, দমে যাওয়ারও কারণ নেই। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই ব্যাথা মিলিয়ে গিয়ে আপনার দেহ আবার চলে আসবে আপনার পূর্ণ নিয়ন্রণে। আর সেটাও যদি করতে চান আরও দ্রুত, আপনার জন্য রইল কিছু টিপস।

বাড়িয়ে দিন প্রোটিন আর জলের পরিমান

শরীরের পেশী গঠন করে প্রোটিন, তাই এর ঘাটতিতে দূর্বল হয়ে পড়ে পেশী। ফলস্বরূপ ব্যায়ামের সময় হওয়া পেশীর অপ্রত্যাশিত টান সহ্য করতে পারেনা দেহ, সৃষ্টি হয় ব্যাথার। তাই আপনার খাবারের তালিকায় মাছ, বাদাম, ডিম, দই, মাংসের মত উচ্চ প্রোটিন সম্পন্ন খাবার রাখবেন নিয়মিত। সাথে সাথে পান করবেন প্রচুর পরিমানে জল। কারণ পানিস্বল্পতাও পেশীর দূর্বলতার অন্যতম কারণ।

বরফজলে স্নান

আমাদের শৈশবে, এমনকি এখনও, শরীরের কোথাও ব্যাথা পেলে আমরা সেখানে বরফ ঘষে থাকি। এটি সেখানকার ফোলাভাব কমিয়ে দিয়ে পেশীকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। ব্যায়ামের সময়ও যদি আপনার পেশীতে টান পড়ে, ১৫-২০ মিনিট বরফজলে স্নান করুন। দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যাথা কমে আসবে। খেলোয়াড়রা, বিশেষ করে অ্যাথলেটরা এটি করে থাকেন নিয়মিত।

পেশীর সঞ্চালন

ব্যায়ামের সময়, শরীরের পেশিগুলো বিভিন্নদিকে প্রসারিত হয়, সংকুচিত হয়। অনেক স্থানের পেশীই এই সংকোচন-প্রসারণের সাথে তাল মেলাতে না পেরে স্থানচ্যূত হয়। সৃষ্টি হয় ব্যাথার। এরকমটা হলে, ঠিক বিপরীতটা করতে শুরু করুন। অর্থাৎ ব্যায়ামের সময় যেভাবে পেশী সঞ্চালন করছিলেন, আবারও তাই করতে শুরু করুন একইদিকে একইভাবে, কিন্তু এবার ধীরে ধীরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্থানচ্যূত পেশী আবার ফিরে আসবে আগের জায়গায়, কমে আসবে ব্যাথা। ব্যায়াম শুরুর ঠিক আগেও এই প্রক্রিয়াটি একবার করে নিতে পারেন। তাতে ব্যায়ামের আগেই শরীরের পেশীগুলো প্রস্তুত হয়ে উঠবে যেকোন চাপের জন্য।

দৈনন্দিন কাজ করতে থাকুন

পেশীর ব্যাথা শুরু হলে, অনেকেই ব্যাথা আরো বাড়তে পারে এই ভয়ে স্বাভাবিক কাজকর্ম ছেড়ে ‘পূর্ণ বিশ্রামে’ চলে যান। আদতে করতে হবে ঠিক উল্টোটা। ভারী কাজ ছাড়া, দৈনন্দিন সকল স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে হবে। এটি সরে যাওয়া পেশীগুলোকে আবার আগের জায়গায় ফিরে আসতে সাহায্য করবে।