হোমপেজ প্রযুক্তি ভবিষ্যৎে হাতের স্মার্টফোন দিয়েই ধরা যাবে মাতালদের

ভবিষ্যৎে হাতের স্মার্টফোন দিয়েই ধরা যাবে মাতালদের

মদ্যপায়ীদের শরীরে অ্যালকোহলের মাত্রা সনাক্তে এতদিন বিশেষ এক ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করা হত। বিভিন্ন দেশে এটি ট্রাফিক পুলিশের হাতে দেখা যায় যারা যন্ত্রটির সাহায্যে রাস্তায় কেউ মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান করে গাড়ি চালাচ্ছে কিনা তা খুঁজে বের করে।

তবে এখন এমন প্রযুক্তি আসতে চলেছে যার মাধ্যমে হাতের স্মার্টফোনের সাহায্যেই যে কেউ তার শরীরে অ্যালকোহলের পরিমান জেনে নিতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক স্মার্টফোনে বিশেষ ধরনের সেন্সর সংযুক্ত করে কারও দেহে নির্দিষ্ট অনুপাতের বেশি অ্যালকোহল রয়েছে কিনা তা সনাক্ত করার পরীক্ষা চালিয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গ পরিচালিত গবেষণাটিতে স্মার্টফোনের সাহায্যে বিভিন্ন মাত্রায় অ্যালকোহল সেবনকারীদের ১০ কদম হাঁটা পর্যবেক্ষণ করে তাদের দেহে অ্যালকোহলের মাত্রা নির্ণয় করা হয়। পরীক্ষাটিতে ৯০% নির্ভূল ফলাফল পাওয়া যায়।

বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, তাদের এই উদ্ভাবন ভবিষ্যৎে স্মার্টফোন, গাড়ি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বহুমূখী ব্যবহারের মাধ্যমে সড়ক দূর্ঘটনা কমিয়ে আনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের করা পরীক্ষায় ২১ থেকে ৪৩ বছর বয়সী ২২ জন ব্যক্তি অংশ নেন। তাদেরকে প্রতি ঘন্টায় মদ ও লেবুর রস মেশানো পানীয় খেতে দেওয়া হয়, যতক্ষণ পর্যন্ত না তাদের প্রতি ১০০ মিলিলিটার রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ৮০ মিলিগ্রামে পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশে রক্তে এই পরিমানের বেশি অ্যালকোহল থাকলে সেই ব্যক্তির গাড়ি চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এরপর অংশগ্রহণকারীদের শরীরে বিশেষ সেন্সরযুক্ত স্মার্টফোন লাগিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী প্রতি দু’ঘন্টা অন্তর তাদেরকে সোজাসুজি ১০ কদম হেঁটে তারপর ঘুরে আবার ফিরে আসতে বলা হয়।

দেখা যায়, সংযুক্ত স্মার্টফোনগুলো ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীদের হাঁটার ধরন বিশ্লেষণ করে তাদের দেহে যে ১০০ মিলিলিটার রক্তে ৮০ মিলিগ্রামের বেশি অ্যালকোহল আছে তা জানিয়ে দিতে পেরেছে।

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এবারের পরীক্ষাটি করা হয়েছে সীমিত আকারে। সামনের দিনগুলোতে আরও বড় পরিসরে গবেষণার মাধ্যমে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা আরও নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

তারা বলছেন, অনেক মানুষই মদ্যপানের পর গাড়ি চালানো্র ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন। তারা চাননা বিপদের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে। কিন্তু তাদের পক্ষে সুনির্দিষ্টভাবে জানারও সুযোগ থাকেনা যে তাদের দেহে অ্যালকোহলের পরিমান বিপদজনক মাত্রার চেয়ে কম রয়েছে না বেশি আছে।

এক্ষেত্রে নতুন পরীক্ষিত প্রযুক্তিটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হলে তাদের হাতে থাকা স্মার্টফোনই তাদের জানিয়ে দিতে পারবে তারা ঐ অবস্থায় গাড়ি চালানোর উপযুক্ত কিনা। এমনকি প্রযুক্তিটির আরও উন্নত এমন সংস্করণের কথাও ভাবা হচ্ছে, যা গাড়িতে সংযুক্ত করা থাকলে চালকের আসনে কেউ বসামাত্রই গাড়িটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বলে দেবে তার পক্ষে গাড়ি চালানো নিরাপদ নাকি বিপদজনক!