Home বিনোদন হলিউড ইতিহাসে প্রথম, এবার মহাকাশে শ্যুটিং করবেন টম ক্রুজ

হলিউড ইতিহাসে প্রথম, এবার মহাকাশে শ্যুটিং করবেন টম ক্রুজ

টম ক্রুজ (Image: Reuters)

টম ক্রুজ মানেই চমক। কখনো দড়ি ধরে বুর্জ খালিফার গা বেয়ে দৌঁড়ে বেড়ানো তো কখনো উড়ন্ত বিমানের দরজা ধরে ঝুলে থাকা, ‘মিশন ইমপসিবল’ সিরিজসহ ক্যারিয়ারের বিভিন্ন ছবিতে একের পর এক এরকম আঁতকে ওঠা স্টান্ট নিজে করে দেখিয়েছেন ৫৭ বছর বয়সী টম ক্রুজ।

এবার এই মার্কিন সুপারস্টার দিতে চলেছেন আরও বড় চমক, যা আগে কখনো কেউ করে দেখাতে পারেননি। তার হাত ধরে হলিউডের ইতিহাসে প্রথমবারের মত মহাকাশে হতে যাচ্ছে কোন ছবির শ্যুটিং। আজ পর্যন্ত মহাকাশভিত্তিক যত ছবি নির্মিত হয়েছে হলিউডে, সেগুলোর শ্যুটিং হয়েছে সাধারণ স্টুডিওতে মহাকাশের কৃত্রিম সেট তৈরি করে।

এবারই প্রথম টম ক্রুজের মাধ্যমে পুরোদস্তুর এক অ্যাকশন ছবির শ্যুটিং হবে ‘আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে’। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এই মূহুর্তে ছবির মূল অভিনেতা ক্রুজের সাথে এব্যাপারে প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া এই ছবির জন্য ইলন মাস্কের মহাকাশ সংস্থা স্পেস-এক্স এর সাথেও টম ক্রুজ কাজ করছেন বলে জানা গেছে। ইলন মাস্ক এ প্রসঙ্গে বলেন, “এটি দারুণ কিছু একটা হতে যাচ্ছে।”

সম্ভাব্য ছবিটির বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা না হলেও জানা গেছে এটি ‘মিশন ইমপসিবল’ সিরিজের ছবি নয়।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ছবির শ্যুটিং করার কথা উল্লেখ করে নাসার প্রশাসক জিম ব্রাইডেনস্টাইন গতকাল এক টুইট বার্তায় বলেন, “মহাকাশ স্টেশনে টম ক্রুজের সাথে একটি ছবির কাজ করার জন্য নাসা উত্তেজিত বোধ করছে।”

টম ক্রুজ এর আগে ২০১৩ সালে ‘অবলিভিয়ন’ ছবিতে একজন মহাকাশচারীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। ছবিটিতে তাকে ভিনগ্রহ থেকে আসা দখলদার এলিয়েনদের হাত থেকে পৃথিবীর সম্পদ রক্ষা করতে দেখা যায়।

এর আগে ২০০২ সালে মহাকাশ বিষয়ক তথ্যচিত্র ‘স্পেস স্টেশন থ্রিডি’-র ধারাবর্ণনা করেছেন ক্রুজ।

টম ক্রুজের করা সেরা চারটি স্টান্ট

হলিউডের অসংখ্য অ্যাকশন হিরোর ভীড়ে টম ক্রুজের ব্যতিক্রম হওয়ার অন্যতম কারণ হল ছবির দূর্ধর্ষ সব স্টান্ট পেশাদার স্টান্টম্যানদের বদলে তিনি নিজেই করেন। এগুলো করতে গিয়ে বহুবার আহত হয়েছেন এই তারকা, কিন্তু তারপরও নিয়মিত নতুন নতুন অ্যাকশন দৃশ্যে সশরীরে অংশ নিয়ে গেছেন তিনি।

দেখে নেওয়া যাক টম ক্রুজের ক্যারিয়ারে তার করা সেরা চারটি স্টান্ট। কাকতালীয়ভাবে, বা হয়ত নয়, স্টান্টগুলো সবই ‘মিশন ইমপসিবল’ সিরিজের।

১. উঁচু ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়া

২০১৭ সালের ‘মিশন ইমপসিবল – ফলআউট’ ছবিতে উঁচু এক ভবনের ছাদ থেকে দৌঁড়ে পাশের অনেকটা নিচু আরেক ভবনের ছাদে লাফিয়ে পড়েন টম ক্রুজ। এটি করতে গিয়ে তার গোঁড়ালি ভেঙে যায়। কিন্তু কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে ঐ অবস্থাতেই পুরো দৃশ্যের শ্যুটিং শেষ করেন ক্রুজ।

২. বুর্জ খালিফার গা বেয়ে ওঠা, এরপর লাফিয়ে নামা

২০১১ সালের ‘মিশন ইমপসিবল – ঘোস্ট প্রোটোকল’ ছবির একটি দৃশ্যে পৃথিবীর সর্বোচ্চ ভবন দুবাইয়ের বুর্জ খালিফার গা বেয়ে উঠতে হয় টম ক্রুজকে। এরপর ভবনটির ওপরের দিকের একটি ফ্লোরের জানালা থেকে তারের সাহায্যে অন্য একটি ফ্লোরের জানালা বরাবর উড়ে যেতে হয় তাকে। দৃশ্যটির জন্য আগের চার মাস ধরে প্রশিক্ষণ নিলেও শ্যুটিংয়ের সময় বাইরের প্রচন্ড বাতাসের জন্য ঠিকমত শটটি দিতে পারছিলেননা টম ক্রুজ। তবে ধৈর্য্য রেখে শেষ পর্যন্ত দৃশ্যটির শ্যুটিং শেষ করেন তিনি।

৩. চলন্ত প্লেনের দরজা ধরে ঝুলে থাকা

২০১৫ সালের ‘মিশন ইমপসিবল – রোউগ নেশন’ ছবিতে টম ক্রুজকে দৌঁড়ে রানওয়াতে চলতে শুরু করা একটি বিমানের পাখার ওপরে লাফিয়ে পড়তে হয়। স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী এরপর বিমানের বন্ধ দরজা ধরে ঝুলে থাকতে হয় টম ক্রুজকে। একসময় তাকে ঐ অবস্থায় ঝুলিয়েই বিমানটি আকাশে পৌঁছে যায়। কয়েক মিনিটের সেই দৃশ্যটির জন্য দু’দিনে মোট চারটি শট দিয়েছিলেন টম ক্রুজ। প্রতিবারই দৃশ্যটি ধারণের আগে রানওয়ে থেকে পাথর, ইট, শক্ত মাটির টুকরোসহ যত ছোটখাট বস্তু ছিল সব সরিয়ে পরিষ্কার করা হত। যাতে বিমানটি চলতে শুরু করার পর প্রচন্ড বাতাসে সেগুলো ছুটে এসে দরজায় ঝুলতে থাকা টম ক্রুজকে আহত করতে না পারে।

৪. খাড়া পর্বতের গা বেয়ে ওঠা আর লাফিয়ে পড়া

২০০০ সালের ‘মিশন ইমপসিবল ২’ ছবিতে একটি খাড়া পাথুরে পর্বতের ওপরের দিকের গা বেয়ে উঠতে হয়েছিল টম ক্রুজকে। এক পর্যায়ে পর্বতের একটি অংশ থেকে লাফ দিয়ে আরেকটি অংশে যেতেও হয় তাকে। হৃদপিন্ড থমকে দেওয়া এই দৃশ্যের শ্যুটিংয়ের সময় স্বয়ং পরিচালক জন উ আতঙ্কে মনিটর থেকে চোখ সরিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু ঠান্ডা মাথার ক্রুজ ধীরস্থিরভাবেই দৃশ্যগুলোর শ্যুট সম্পন্ন করেন।