হোমপেজ লাইফস্টাইল জেনে নিন টমেটোর চমকপ্রদ কয়েকটি স্বাস্থ্যগুণ

জেনে নিন টমেটোর চমকপ্রদ কয়েকটি স্বাস্থ্যগুণ

এক কালের শীতের সবজি টমেটো এখন সারা বছরই পাওয়া যায়। খাবার হিসেবে এর জনপ্রিয়তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। কখনো সালাদে কাঁচা টমেটো, কখনো তরকারিতে রান্না করা টমেটো, কখনো আবার ফাস্টফুডের সাথে হালকা টমেটো কেচাপ… খাদ্য তালিকায় লাল টুকটুকে এই সবজির অবস্থান বহু জায়গাতেই। আবার ঠিক ততটাই বিস্তৃত মুখরোচক এই সবজির পুষ্টিগুণও।

আসুন জেনে নেই টমেটো থেকে আপনি উপকারী কি কি পুষ্টি পেতে পারেন আপনার শরীরের জন্য।

পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন, টমেটোর অন্যতম প্রধান পুষ্টি উপাদান হল লাইসোপেন। প্রাকৃতিক এই অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের উপস্থিতির জন্যই টমেটোর রঙ লাল হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, হৃদপিন্ডের রক্ত চলাচলে বিশেষ প্রভাব রাখে এই লাইসোপেন। এটি শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।

২০০২ সালে জনপ্রিয় ফাস্টফুড পিৎজার ওপরে একটি গবেষণা চালানো হয়েছিল। তাতে দেখা যায়, যারা সপ্তাহে দু’টি বা তার বেশি পিৎজা খেয়ে থাকেন তাদের প্রোস্টেট ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি ২৩ শতাংশ কমে যায়। অবশ্য গবেষকদের ধারণা, সরাসরি পিৎজা নয়, বরং এতে থাকা টমেটো সসের লাইসোপেনই এই ঝুঁকি কমার কারণ। বরং উল্লেখ্য, শর্করাসহ বেশ কিছু উপাদান উচ্চমাত্রায় থাকার কারণে পিৎজার মত কিছু ফাস্টফুড বেশি খাওয়া্টা আদতে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকরই। গ্যাস্ট্রিক এবং অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখে টমেটো।

টক স্বাদের টমেটো মানব শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দুই উপাদান ভিটামিন সি ও পটাশিয়ামের সমৃদ্ধ এক উৎস। একটি মাঝারি আকারের কলায় যেখানে ৪২২ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে সেখানে মাঝারি একটি টমেটোতে এর পরিমান ২৯২ মিলিগ্রাম। আবার গোটা টমেটোর চেয়ে সমপরিমান টমেটো পিউরিতে পটাশিয়াম থাকে বেশি।

শহুরে জীবনের খুব পরিচিত একটি রোগ ডায়বেটিস। এর চিকিৎসা করাতে এবং নানা নিয়মকানুন মেনে চলতে গিয়ে গলদঘর্ম হতে হয় এতে আক্রান্তদেরকে। ডাক্তারদের পরামর্শ, প্রচুর পরিমানে সবজি ও ফল গ্রহণ এই রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। এখানেও টমেটোর গুরুত্ব অনেক। ডায়বেটিসের কারণে হওয়া জ্বালাপোড়া ও টিস্যুর ক্ষয় রোধে টমেটো কার্যকর এক পথ্য। প্রতিদিন অন্তত একটি টমেটো খাবারের তালিকায় রাখলে তা দীর্ঘমেয়াদে আপনার দেহে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

টমেটো ফাইবারেরও ভরপুর এক উৎস। একটি মাঝারি টমেটোতে ১.৫ গ্রাম ফাইবার থাকে। খাবারের হজম প্রক্রিয়া মসৃণ করতে ফাইবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফাইবারের অভাবে কোষ্ঠকাঠিণ্য ও অনিয়মিত পায়খানার সমস্যা দেখা দেয়। তাই এগুলো প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ফাইবার পেতে আপনার খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন টমেটোকে।

ত্বক ভালো রাখতেও রয়েছে টমেটোর অবদান। ঘর থেকে বাইরে বের হলেই আমাদের ত্বককে সহ্য করতে হয় কড়া রোদের তীব্র আক্রমণ। এতে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয় ত্বক জুড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত টমেটো খেলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ও রোদে পোড়ার হাত থেকে তা ত্বককে অনেকটা রেহাই দেয়।

টমেটোর আরেক গুণ হল, এটি আমাদের চোখেরও বন্ধু। শুরুতেই বলেছিলাম লাইসোপেনের কথা। এই উপাদানটি বয়সের সাথে সাথে হওয়া চোখের ম্যাকুলার ক্ষয়ে যাওয়া ও চোখে ছানি পড়ার ঝুঁকি কমাতেও বিশেষভাবে সাহায্য করে। তাই চোখ ভালো রাখতে লাইসোপেনের অন্যতম উৎস টমেটো খান নিয়মিত। সাথে যোগ করতে পারেন ডিম আর সবুজ পাতাযুক্ত সবজি, যেগুলোতে রয়েছে চোখের জন্য প্রয়োজনীয় আরও দুই উপকারি উপাদান লুটিন ও জিয়াজানথিন।